দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস প্রথম ব্রিটিশ সম্রাট হিসেবে নিজের কর পরিশোধের তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত বার্ষিক রাজকীয় আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর পরিশোধ করেছেন। একই সময়ে প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স উইলিয়াম কর দিয়েছেন ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজা চার্লসের পরিশোধ করা করের পরিমাণ তাকে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ করদাতাদের তালিকার শীর্ষ ১০০ জনের মধ্যে স্থান দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা বাকিংহাম প্যালেসে না উঠে আগের মতোই ক্ল্যারেন্স হাউসে বসবাস অব্যাহত রাখবেন।
এদিকে রাজপরিবারের বার্ষিক সরকারি অনুদান ‘সভারেন গ্রান্ট’-এর মূল অংশ আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৬৩ লাখ পাউন্ড। এর মধ্যে ৫ কোটি ১৮ লাখ পাউন্ড নিয়মিত ব্যয় এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড বাকিংহাম প্যালেস সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ছিল।
সংস্কারকাজ শেষ হলে মোট অনুদান ১৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড থেকে কমে ৯ কোটি ৯৯ লাখ পাউন্ডে নেমে আসবে। তবে সেটিও আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সভারেন গ্রান্ট থেকে রাজপরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, রাজকীয় সফর, সরকারি অনুষ্ঠান এবং প্রাসাদগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজা চার্লস ১ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড এবং প্রিন্স উইলিয়াম ৮৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড কর পরিশোধ করেছিলেন।
রাজা ও প্রিন্স উইলিয়ামের কর পরিশোধের তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্তকে রাজপরিবারের আর্থিক বিষয়ে অধিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের পর রাজপরিবারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বাড়ানোর দাবি উঠেছিল।
বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাজপরিবারের জবাবদিহিতা সম্পর্কে জনগণের উপলব্ধি বাড়ানো।
তবে কর বিশেষজ্ঞ ও ‘ট্যাক্স পলিসি অ্যাসোসিয়েটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড্যান নেডল বলেন, প্রকাশিত তথ্য এখনো পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। তিনি বলেন, আয়কর ও মূলধনী মুনাফা করের পরিমাণ আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া কী ধরনের ব্যয় করযোগ্য আয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি।
রাজা চার্লস প্রতি বছর ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট থেকে আয় করেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে তার আয় হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড। এছাড়া ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, সঞ্চয় এবং বালমোরাল ও স্যান্ড্রিংহাম এস্টেট থেকেও তার করযোগ্য আয় রয়েছে।
অন্যদিকে প্রিন্স উইলিয়াম ডাচি অব কর্নওয়াল এস্টেট থেকে আয় করেন, যা তার সরকারি দায়িত্ব, কার্যালয় পরিচালনা এবং পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে ব্যবহৃত হয়। তার ব্যক্তিগত সচিব ইয়ান প্যাট্রিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থের ওপর সর্বোচ্চ হারে আয়কর পরিশোধ করেন প্রিন্স উইলিয়াম এবং এসব ব্যয় স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হয়।
এছাড়া প্রিন্স উইলিয়াম ঘোষণা দিয়েছেন, ডার্টমুর কারাগার থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড ভাড়া বাবদ যে অর্থ আসে, তা তিনি আর ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না। অর্থটি স্থানীয় জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
নতুন অর্থায়ন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে রাজপরিবারের মূল সরকারি অনুদান ৯ কোটি ৯৯ লাখ পাউন্ডে নির্ধারিত হবে এবং পরবর্তী পাঁচ বছর তা অপরিবর্তিত থাকবে। এই অর্থ ঐতিহাসিক ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, রাজপ্রাসাদগুলোর সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরের কাজে ব্যয় করা হবে। উইন্ডসর ক্যাসেলের বয়লার পরিবর্তনের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড।
রাজপরিবারের কোষাধ্যক্ষ জেমস চ্যালমার্স বলেন, এই অনুদান কোনোভাবেই ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ নয়। প্রতিটি ব্যয় কঠোর নিরীক্ষা, পরিকল্পনা এবং ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রাউন এস্টেটের পরিচালন মুনাফা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ১২০ কোটি পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৪০ কোটি পাউন্ড। অফশোর উইন্ড প্রকল্প থেকে আয় কমে যাওয়ায় এই মুনাফা হ্রাস পেয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/